Install Our Mobile App: Android iPhone

মুহাদ্দিসুল আসার শায়েখ যুবাইর আলী যাঈ রহিমাহুল্লাহ- সমসাময়িক ওলামদের দৃষ্টিতে

তাহরীরঃ হাফিজ মুহাম্মদ ইউনুস আসারী হাফিজাহুল্লাহ (করাচি)


🌹 ফজিলাতুশ-শায়েখ মাওলানা রফিক আসারী হাফিজাহুল্লাহঃ-

"আমি ওনার মৃত্যুকে এই জামআতের (উম্মতের জন্য) অনেক বড় ক্ষতি এবং দুঃখজনক ঘটনা মনে করি। আসমাওর রিজালের ওপর ওনার অনেক গভীর নজর (ইলম) ছিল, মহান আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষন করুন। আলে-দেওবন্দীসহ প্রমুখদের বিষয়ে তাঁর লেখনীগুলোও অনন্য ছিল। যদিও, অনেক লোক তাঁর পিছনে লেগে থাকতো৷ কিন্তু তিনি কারো পরোয়া করতেন না। মজবুত দলিলের সাথে উত্তম পদ্ধতিতে (তাদের) জবাব দিতেন। আল্লাহ তাঁকে রহমত বর্ষন করুন। আর আল্লাহ যেনো এই জামআতকে আরো একজন ভালো বিকল্প প্রদান করেন।"

🌷 ফাজিলতুশ-শায়েখ আবদুল্লাহ নাসির রহমানী হাফিজাহুল্লাহ বলেনঃ-

"তিনি অনেক বড় আজীমে আলেমে দ্বীন ছিলেন। বিশেষত, ইলমুর রিজালে তিনি বিশেষ স্থান (ইলম) রাখতেন, যার দরুণ পুরো পাকিস্তানে এই পজিশনে ওনার মতো দ্বিতীয় কেও নেই। তাঁর খুব সাধারণ স্বভাব ছিল। যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), তাকওয়া এবং শক্তিশালী হিফজ তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো মধ্যে বিদ্যমান ছিল।"

🌷 ফাজিলাতুশ-শায়েখ মাসউদ আলিম হাফিজাহুল্লাহঃ

"তিনি তাঁর সময়ের খুব বিরল মানুষ ছিলেন। আল্লাহ তাআলা ওনাকে অনেক ইলম এবং হিফজ দান করেছেন। জামআতের (উম্মতের) জন্য তিনি অত্যন্ত আন্তরিক প্রচেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে, হাদীসে নববী (সা) এর খিদমত করেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে যেখানেই সুন্নাতের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলা হয়েছে, তিনি সেখানে সুন্নাতকে রক্ষা করেছেন। বিভিন্ন মাসলাকের ধর্মান্ধ অনুসারীদের বিরুদ্ধে তিনি অনেক বড় ইলমি জিহাদ করেছেন। আল্লাহ রব্বুল ইজ্জাত তাঁর (জান্নাতের) মাকাম বৃদ্ধি করুন এবং আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাঁকে তাঁর ঘনিষ্ট বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।" (আমিন ইয়া রব্বি)....

🌷 ফাজিলাতুশ-শায়েখ মুবাশশির আহমেদ রব্বানী হাফিজাহুল্লাহঃ

"তিনি অনেক গুলো গুনের অধিকারী ছিলেন। আর তিনি পাকিস্তানের সমসাময়িক ওলামাদের মধ্যে আসমাওর রিজালের ওপর সবচেয়ে বেশী দক্ষ ছিলেন। আর গোমরাহপন্থী ফিরকাবাজদের হামলার বিরুদ্ধে কিতাব ও সুন্নাতের দৃষ্টিতে জবাব দেয়ার জন্য খুব শীগ্রই ময়দানে নেমে যেতেন। মাহনামা আল- হাদীস (পত্রিকা) এটার সবচেয়ে বড় সাক্ষী। এইভাবে, হাদীসের খেদমতে ওনার কিতাবাদী এবং মাক্বালাত এককেকটি মাস্টারপিসের মতো গুরুত্ব রাখে৷ এইভাবে, যখনই আহলে বিদয়াতের বিরুদ্ধে যেকোন মুনাজারা (বাহাস) গরম হয়ে উঠতো, তখন শায়েখ যুবাইর আলী যাঈ রহিমাহুল্লাহ তাঁর সাথী ও বন্ধুদের সাথে সম্মানের সাথে চলে যেতেন এবং তার সাথীদের থেকেও বেশী দলিল জোগাড় ও যাছাই বাছাই করে ময়দানে নেমে যেতেন। এই ধরনের প্রতিভাবান ব্যক্তিগণ বহুবছর পর পর জন্ম নেন। আল্লাম তাআলা ওনাকে আম্বিয়াগণ, শহীদগণ এবং সালেহীনদের সাথে জান্নাতুল ফেরদৌসে উঁচু মাকাম দান করুন। আল্লাহ তাআলা আহলে হাদীস উলামাগণের মধ্যে যেসব শূন্যতা রয়েছে, সেগুলোকে তাঁর রহমত এবং অনুগ্রহ দিয়ে পূর্ণতা দান করুন। আর, হে রব্বুল আলামীন! আমাদের শাইখ সাহেবের মতো এমন গুণসম্পন্ন ব্যক্তির মতো আরো আলেম দান করুন। (আমিন ইয়া রব্বি)

🌷ফজিলাতুশ-শায়েখ ইরশাদুল হক্ব আসারী হাফিজাহুল্লাহঃ

"আল-শায়েখ যুবাঈর আলী যাঈ রহিমাহুল্লাহ, মা শা আল্লাহ! আল্লাহ ওনাকে যে গুণসমূহ দান করেছেন এবং যে ইলম প্রদান করেছেন, সেগুলোই তাঁর বিশেষত্ব। হাদীস এবং ইলমুর রিজালের ওপর ওনার অনেক গভীর নজর (ইলম) ছিল। আল্লাহ তাআলা ওনাকে খুব বেশী হিফজ এবং স্মৃতিশক্তি দান করেছিলেন। আমি তো ওনাকে সে সময় থেকে জানতাম, যখন তিনি মাত্র তালিম হাসিল শুরু করেছিলেন৷ বরং, এর আরো আগে, ওনার দোকানে আসা যাওয়া ছিল। এরপরে তিনি দারুল-দাওয়াহ আস-সালাফীয়্যাহ তে চলে আসেন। সেখানে তিনি এক মাসের মধ্যে কুরআন মাজীদ হিফজ করেন। (সুবহানাল্লাহ!) আল্লাহ তাআলা ওনাকে অনেক বড় বড় গুণ দান করেছেন। কিন্তু প্রতিটি ব্যক্তির সময় আল্লাহর কাছেই স্থির রয়েছে। ওনার চলে যাওয়ার সময়ও স্থির ছিল। কিন্তু তিনি খুব শীগ্রই চলে গেলেন। যতটুকু ওনার কাছে প্রত্যাশা ছিল, তিনি তাআলার অনুগ্রহ এবং দয়ায় অনেক হাদীসের খেদমতে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু সেগুলো একাই পড়েই রইলো। আল্লাহ তাআলা তার কর্মগুলো কবুল করুন এবং তাঁর যে প্রচেষ্টাগুলো ছিল সেগুলোও কবুল করুন।আর তাঁর সকল কমবেশী ত্রুটি এবং গুনাহসমূহ মাফ করুন।" (আমিন ইয়া রব্বি)

🌷 ফজিলাতুশ-শায়েখ আবদুস সাত্তার হাম্মাদ হাফিজাহুল্লাহ বলেনঃ

" আসমাওর রিজালের ক্ষেত্রে তিনি অনেক বড় দক্ষ ছিল। হানাফিয়্যাতের বিষয়ে তিনি অনেক প্রানবন্ত মন্তব্য করেছিলেন। ইকতিলাফি বিষয়গুলোকে সহ্য করতেন। আল্লাহ তাকে রহমত বর্ষন করুন।" (আমিন)

🌷 ফজিলাতুশ-শায়েখ খলিলুর রহমান লকভী হাফিজাহুল্লাহ বলেনঃ-

" তিনি তাহকীকের ময়দানে অনেক দক্ষ সওয়ারী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে জামআতের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে।"

🌷 ফজিলাতুশ-শায়েখ মাহমুদুল হাসান হাফিজাহুল্লাহ বলেনঃ-

"বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফিজ যুবাইর আলী যাঈ

(تغمدہ اللّٰہ بغفرانہ واسکنہ فرادیس الجنانہ وفضلہ علی فوق کثیر من الناس یوم القیامۃ)

একজন অনেক বড় আলিম এবং মুহাদ্দিস ছিলেন। তাঁর সাথে আমার পরিচয়, আমার এক বন্ধু খোরশেদ আহমাদের মাধ্যমে হয়। মরহুম শায়েখ যখনই করাচি আসতেন, তার (খোরশেদের) ঘরেই অবস্থান করতেন। আল্লাহ তাআলা ওনাকে ইলমের অনেক বড় সাগর বানিয়েছিলেন। রাসূলূল্লাহ ﷺ এর হাদীসসমূহের ওপর তার অনেক গভীর ইলম ছিল। কয়েক বছর পূর্বে, দারুল হাদীস রহমানিয়া, করাচি তে ওনার দরসে বুখারী ও শুনেছিলাম। খুবই বুঝসম্পন্ন এবং গবেষনাপূর্ণ দরস ছিল সেটা। ওনার দরসে বসে, আমি নিজেই নিজের অনেক ভুল বুঝতে সক্ষম হই এবং সংশোধনের সুযোগ পাই। এভাবে, তিনি খোরশেদ আহমেদ সাহেবের বাড়িতে তাওহীদের বিষয়ে দরস বসেছিলেন। আমিও ওনার উক্ত দরসে অনেক সুবিধা লাভ করি। নিসফে শাবানের ফজিলতের ওপর টেলিফোনে ওনার সাথে আলোচনাও হয়েছিল, যেখানে কিছু তিক্ততা উঠেছিল, আল্লাহ আমাকে মাফ করুন।

যাইহোক, তিনি ইলমের পাহাড় ছিলেন। আল্লাহ তাঁর মাকাম বৃদ্ধি করুন। এভাবে নাবালেগ বাচ্চার ইমামতি বিষয় নিয়েও ওনার নিকট ফতোয়ার তলব করেছিলাম, যা এখনো আমার কাছে রক্ষিত আছে। ওনি অনেক উত্তম এবং কার্যকরী জবাব দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা ওনার মাগফেরাত দান করুন এবং করুণার জোয়ারে তাকে স্থান দান করুন।" (আমিন)

------------

তাহরীরঃ হাফিজ মুহাম্মদ ইউনুস আসারী হাফিজাহুল্লাহ (করাচি)

অনুবাদকঃ এইচ.আর.সিহাব মুহতাদী

📔 আসল আর্টিকেলের জন্য দেখুনঃ-

[ماہنامہ الحدیث حضرو شمارہ 114 صفحہ نمبر 47]

অন্যান্য নিবন্ধ:

1 ঈমানদারগণ পরষ্পর ভাই-ভাই মুহাদ্দিসুল আসর হাফেজ যুবায়ের আলী জায়ি রহমাতুল্লাহ আলাইহি
2 মুজাদ্দিদ কে? মুহাদ্দিসুল আসর হাফেজ যুবায়ের আলী জায়ি রহমাতুল্লাহ আলাইহি
3 মুহাদ্দিসুল আসার শায়েখ যুবাইর আলী যাঈ রহিমাহুল্লাহ- সমসাময়িক ওলামদের দৃষ্টিতে
4 তাওহীদ- সবার আগে! মুহাদ্দিসুল আসর হাফেজ যুবায়ের আলী জায়ি রহমাতুল্লাহ আলাইহি

Android App --or-- iPhone/iPad App

IshaatulHadith Hazro © 2022